তরুণদের ভাবনায় স্বাধীনতা দিবস
আসাদুজ্জামান (ডিআইইউ) প্রতিনিধি: ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পরে যে বিজয় এসেছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, তার শুরুটা হয়েছিল এই দিনেই। একটি জাতির স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নেওয়ার গোড়াপত্তন হয়েছিল এই দিনে। তাই প্রতি বছর মার্চ মাসের ২৬ তারিখ আমাদের জন্য স্মরণীয় দিন। সে সময় দেশকে রক্ষা করতে সবার আগে তরুণরা এগিয়ে এসেছিল।দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রামের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা দিবস আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। প্রেরণা যোগায় নিষ্ঠার পথে নির্ভীক যোদ্ধা হওয়ার। শুধু একটি দিবস হিসেবে নয়, এর বর্ণচ্ছটায় বদলে যায় জীবনের গতিপথ, সাহস যোগায় নতুন শপথ নেওয়ার। আর এ কারণেই স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য এত বেশি।শহীদদের স্মরণে আমরা যত আয়োজনই করি না কেন, যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের জীবন বাজি রেখে লড়াই করার ঋণ শোধ হবে না কিছুতেই। আজ আমাদের এই স্বাধীন চলন-বলন যাদের অবদানে, তাদের পথটা কিন্তু মোটেই সুগম ছিল না। এই সময়ের কয়েকজন তরুণ বলেছেন স্বাধীনতা নিয়ে তাদের ভাবনার কথা-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী একে এম আল-আমিন সরকার বলেন, স্বাধীনতা শব্দটি বস্তুত একটি জাতিস্বত্ত্বার চিত্রায়ণ। সে জাতিস্বত্ত্বার চিত্রায়ণে স্থান, কাল পাত্রভেদে জায়গা নেয় সে দেশের ইতিহাস, বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের আশা-আকাঙ্ক্ষা। আমার কাছে স্বাধীনতা বলতে গর্ব ভরে বলতে পারা আমি বাংলাদেশি। আমার কাছে স্বাধীনতা বলতে জাতীয় সংগীত গাইতে গিয়ে নিজের অজান্তে ভিজে যাওয়া চোখ। আমার কাছে স্বাধীনতা বলতে উন্মুক্ত গ্যালারি বা টিভি সেটের সামনে বসে খেলা দেখার সময় বাংলাদেশ বাংলাদেশ চিৎকার। তবে আজ জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই, রাজনীতিতে কোনো আদর্শ নেই।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিশাত আকবর সৌরভ জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব গুণ ছিল তারুণ্য নির্ভর। জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে যখন তিনি সংযুক্ত হন তখন তিনি অতি তরুণ। ১৯৭১ সালে দেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে তরুণ ছাত্রদের ভূমিকা অসামান্য। ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পরে যে বিজয় এসেছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, তার শুরুটা হয়েছিল এই দিনেই।ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও গাইবান্ধা জেলা ছাত্র সমিতির সভাপতি ফোরকানুর জামান মেহেদী বলেছেন, একটি ভূখণ্ড, একটি রাষ্ট্র আর স্বাধীনতা একই সূত্রে গাথা। স্বাধীনতা দিবস হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন। আত্মশক্তির প্রতীক রূপে ২৬ মার্চ দিনটিকে আমরা স্মরণ করি। স্বাধীনতা একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। কিন্তু জাতিগতভাবে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আমাদের ত্রিশ লাখ মানুষকে শহীদ হতে হয়েছে এবং দুই লাখ মা-বোন সম্ভ্রমহারা হয়েছেন।ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস) এর শিক্ষার্থী আমির আজমেরি নিরব বলেন, স্বাধীনতা ছাড়া একটা জীবন মানে হলো, অনেকটা আত্মা ছাড়া শরীর। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের ফলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে পাকিস্তানিদের সাথে, গড়ে তুলেছে "মুজিব বাহিনী"। ধ্বংস করেছে হানাদার বাহিনীর একের পর এক সকল পরিকল্পনা। দীর্ঘ নয় মাস সংগ্রামের ফসল আমাদের স্বাধীনতা।গাইবান্ধা সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী লাবলু সরদার জানান, ১৯৭১ সাল নিয়ে আমাদের গৌরব আছে, আমাদের গল্প আছে, কিন্তু ৭১ পরবর্তী গল্পগুলো খুব বেশি এগুতে পারছে না। আমাদের দেশের নাম, পতাকা, শাসক ও শাসন পদ্ধতি বদলেছে। আমরা নিজেদের স্বাধীন দেশের নাগরিক বলতে পারছি কিন্তু যে পরিমাণ ত্যাগ, ক্ষত আর রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, সেই আনুপাতিক হারে আমাদের অর্জন হয়নি।নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আলোকচিত্রী অভীক শীল অর্ক বলেন, একাত্তরের ২৬ মার্চ দিনটি বাঙালির ২৩ বছরের শোষণ দমনের পথে শেষের শুরু। যে অধ্যায়ে লেগে আছে দাঁত কামড়ানো মানসিকতা, যা ছিনিয়ে আনে বিজয়। বর্তমান প্রজন্ম স্বাধীনতা শব্দটির মানে ভুলতে বসেছে। ত্যাগের মহিমায় ফের আলোকিত করতে হবে তরুণদের। একজন আলোকচিত্রী হিসেবে, স্বাধীনতা আমার কাছে একটি ক্যামেরা শাটারের মতো। স্বাধীন এই দেশে স্বাধীনভাবে আমরা যে মুহূর্তগুলো তুলে ধরি আমাদের এই ক্যামেরা শাটারে এইটাই আমার কাছে স্বাধীনতা।