সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথের উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মাছ ধরার আদি উৎসব ‘পলো বাওয়া’। লোকজন দল বেঁধে বিলের মধ্যে পলো হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শুরু হয় মাছ ধরার প্রতিযোগিতা।১৫ জানুয়ারি সোমবার সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি হাওরের বড় বিলে শুরু হয়েছে সেই পলো বাওয়ার প্রতিযোগিতা। এদিন দুপুর ১২টা থেকে পলো বাওয়া উৎসব শুরু হয়। যা আগামী ১৫ দিন পর্যন্ত চলবে। এতে অংশ নেন শিশু থেকে বুড়ো, সবাই পলো হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন হাওরে।এ উৎসবের মধ্য দিয়েই স্থানীয়রা জানান দেন পুরোনো সংস্কৃতির। দুপুর ১২টা থেকে মনের আনন্দে পলো বাওয়া উৎসবে যোগ দেন উপজেলার বিশ্বনাথ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ। দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে পলো বাওয়া উৎসব।স্থানীয়রা জানান, পলো বাওয়ায় ধরা পড়া মাছের মধ্যে শোল ও বোয়ালই বেশি। অনেকেই আবার গজার মাছ ধরতে সক্ষম হন।পলো বাওয়া উৎসবের আনন্দ যুবক-বৃদ্ধের চেয়ে ছোট ছোট শিশুদের মধ্যে একটু বেশি। তারা তাদের বাবা-চাচা-দাদা-মামা-ভাইয়ের হাত ধরেই উৎসবে শরিক হতে এসেছে।জানা যায়, পৌষ সংক্রান্তির পর পরই প্রায় দুই শত বছর ধরে চলা এই পলো বাওয়া উৎসবে যোগ দেন বিশ্বনাথ ইউনিয়নের ১৪-১৫ গ্রামের ছোট-বড় শত শত মানুষ।এই পলো বাওয়া উৎসব দেখতে আশপাশের গ্রামের এবং দূরদূরান্ত থেকেও লোকজন সকাল থেকেই ছোট ছোট দল বেঁধে আসতে থাকেন বিলের পাড়ে।এলাকাবাসী জানান, প্রায় দুইশ বছর ধরে এই বিলে ‘পলো বাওয়া’ উৎসব পালন হয়ে আসছে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে বিলে মাছ শিকার করেন।
১৫ জানুয়ারী ২০২৪ ১১:৪৬ এএম
পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার রুহুল বিলে দল বেঁধে মাছ ধরার আয়োজনের নাম ‘বাউত উৎসব’। দল বেঁধে বিলে নেমে কেউ পাচ্ছেন বোয়াল, কেউ বা শোল, রুই, কাতল। বেলা শেষে আবার অনেকেই বাড়ি ফিরছেন খালি হাতে।এভাবেই চলনবিলে মাছ শিকারে মেতেছেন সৌখিন মৎস্য শিকারীরা। চলনবিলের রুহুল বিল, ডিকশির বিল, রামের বিলসহ বিভিন্ন বিলে প্রতি বছর শীতের শুরুতে মাসব্যাপী চলে এই বাউত উৎসব।২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো অন্তত ২০টি বাস। এসব বাসে কুষ্টিয়া, নাটোর, টাঙ্গাইল, মধুপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ থেকে এসেছেন অনেক মৎস্য শিকারী। টাঙ্গাইল থেকে মাছ শিকারে আসা আশিকুর রহমান ও নাটোর থেকে বাউত উৎসবে আসা আরেক মৎস্য শিকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই আসি এই বাউত উৎসবে। কিন্তু এবার মাছ নেই বললেই চলে। তবে আমরা মাছ পাই বা না পাই, সবাই মিলে আনন্দ করি, এটাই ভালো লাগে। বিলে গ্যাস ট্যাবলেট দেওয়ায় ছোটখাটো মাছ যা আছে বেশিরভাগ মরে গেছে।উল্লেখ্য, চলনবিলাঞ্চলে এমন উৎসব চলছে যুগের পর যুগ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার নভেম্বরের শেষে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে মাসব্যাপী চলে এই উৎসব।
২৯ নভেম্বর ২০২৩ ০৬:২৭ এএম
পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার রুহুল বিলে দল বেঁধে মাছ ধরার আয়োজনের নাম ‘বাউত উৎসব’। দল বেঁধে বিলে নেমে কেউ পাচ্ছেন বোয়াল, কেউ বা শোল, রুই, কাতল। বেলা শেষে আবার অনেকেই বাড়ি ফিরছেন খালি হাতে।এভাবেই চলনবিলে মাছ শিকারে মেতেছেন সৌখিন মৎস্য শিকারীরা। চলনবিলের রুহুল বিল, ডিকশির বিল, রামের বিলসহ বিভিন্ন বিলে প্রতি বছর শীতের শুরুতে মাসব্যাপী চলে এই বাউত উৎসব।২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো অন্তত ২০টি বাস। এসব বাসে কুষ্টিয়া, নাটোর, টাঙ্গাইল, মধুপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ থেকে এসেছেন অনেক মৎস্য শিকারী। টাঙ্গাইল থেকে মাছ শিকারে আসা আশিকুর রহমান ও নাটোর থেকে বাউত উৎসবে আসা আরেক মৎস্য শিকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই আসি এই বাউত উৎসবে। কিন্তু এবার মাছ নেই বললেই চলে। তবে আমরা মাছ পাই বা না পাই, সবাই মিলে আনন্দ করি, এটাই ভালো লাগে। বিলে গ্যাস ট্যাবলেট দেওয়ায় ছোটখাটো মাছ যা আছে বেশিরভাগ মরে গেছে।উল্লেখ্য, চলনবিলাঞ্চলে এমন উৎসব চলছে যুগের পর যুগ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার নভেম্বরের শেষে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে মাসব্যাপী চলে এই উৎসব।
২৯ নভেম্বর ২০২৩ ০৬:২৭ এএম
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: প্রতিবছরের মতো এবারও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ও আকচা ইউনিয়নের শুক নদীর তীরে বুড়িবাঁধে শুরু হয়েছে মাছ ধরার উৎসব। ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার ভোর রাতে বাঁধের গেট খুলে দেয়ায় মাছ ধরার উৎসবে যোগ দিয়েছেন আশেপাশের কয়েক গ্রামের বাসিন্দারা।হাতে জাল নিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে পানিতে নেমেছেন কয়েক হাজার মানুষ। কেউ ভেলায়, কেউ ছোট নৌকায় করে নেমেছেন মাছ ধরার প্রতিযোগিতায়। দৃশ্যটি ঠাকুরগাঁও বুড়ির বাঁধ এলাকার। প্রতি বছরের ন্যায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের শুক নদীর বুড়িবাঁধ এলাকায় শুরু হয়েছে মাছ ধরা উৎসব।উৎসবে যোগ দিয়ে অসংখ্য মানুষ মাছ ধরতে ব্যস্ত। এদের মধ্যে নারী, পুরুষ, শিশুও রয়েছে। বাদ যাননি বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও। কারও হাতে পলো, কারও তে চাবিজাল, খেয়াজাল, টানাজাল বা ছেঁকাজাল। যাদের মাছ ধরার সরঞ্জাম নেই তারাও বসে নেই। খালি হাত দিয়েই কাঁদার মধ্যে মাছ খুঁজছেন। অনেকে আবার ভিড় জমিয়েছেন মাছ ধরা দেখতে। এই মাছ উৎসব ঘিরে বাঁধ এলাকায় বসানো হয়েছে বিভিন্ন খাবারের দোকান।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ১৯৫১-৫২ সালের দিকে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষি জমির সেচ সুবিধার জন্য একটি স্লুইসগেইট নির্মাণ করা হয়। স্লুইসগেইটে আটকে থাকা সেই পানিতে প্রতিবছর মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা ছাড়া হয়। আর এ পোনাগুলোর দেখভাল করে আকচা ও চিলারং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)।৫০ একর এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয় শুক নদীর উপর নির্মিত বুড়ির বাঁধ মৎস্য অভয়াশ্রম। সারা বছর কাউকে এখানে মাছ ধরতে দেওয়া হয় না। শুধু জমানো পানি ছেড়ে দেওয়ার পর এ সময়ই মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হয়।ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.গোলাম যাকারিয়া বলেন, ১৯৫১-৫২ সালের দিকে বুড়ি বাঁধ সেচ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়। বাঁধটির সামনে মাছের একটি অভয়াশ্রম আছে। প্রতি বছর বাঁধটি ছেড়ে দেওয়ার পর এখানে মাছ ধরতে অনেক মানুষের সমাগম ঘটে। এই প্রকল্প কৃষি জমিতে সেচে পানি সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মাছের চাহিদা পূরণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
১৮ অক্টোবর ২০২৩ ০৪:৪৬ এএম