নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বারইপাড়ায় নবগঙ্গা নদীর ওপর ৭ বছর ধরে চলছে সেতু নির্মাণ কাজ। নকসার ত্রুটি, ঠিকাদারের গাফিলতি, কাজে ফাকি, সঠিক তদারকির অভাব, কর্তৃপক্ষের অদৃশ্য খবরদারিসহ নানাবিধ জটিলতায় কাজটি শেষ হচ্ছে না। থেমে থেমে ৭ বছর ধরে চলছে এ সেতু নির্মাণের কাজ।২০১৭ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে। আড়াই বছরে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বারবার মেয়াদ বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করতে পারেনি। নকশায় ত্রুটি থাকায় নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে সেতুতে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুন হয়েছে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, সেতু নির্মাণের বাকি কাজ ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে। কয়েক দফায় সময় ও অর্থ বেড়ে এখন ব্যয় ১২৫ কোটি ৯২ লাখ ৩১৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল জেলা শহর থেকে কালিয়া উপজেলা শহর ও ৮ টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভাকে পৃথক করে রেখেছে নবগঙ্গা নদী। ফলে কালিয়া উপজেলাবাসীকে যোগাযোগে ব্যপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেই ভোগান্তি কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ঘোষণা অনুযায়ী উপজেলার বারইপাড়া খেয়াঘাটে ২০১৭ সালে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।নড়াইল-কালিয়া সড়কের ২১ কিলোমিটারে নবগঙ্গা নদীর ওপর ৬৫১.৮৩ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০.২৫ মিটার প্রস্থের বারইপাড়া সেতু নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা। সেতু নির্মাণের কাজ পেয়েছিলেন যশোরের ঠিকাদার মঈনুদ্দীন বাসী ও জামিল ইকবাল। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তখন নির্দিষ্ট সময় শেষে কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ। পরবর্তীতে আরও তিন বার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে কাজ শেষ করতে পারেনি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শেষ সময়ে অর্থাৎ ৪র্থ বার মেয়াদ বৃদ্ধির সময় ধরা পড়ে নকশার জটিলতা। সেতুর ছাদের কিছু অংশ নির্মাণ কাজ শেষে দেখা যায় সেতুর নিচ দিয়ে নৌ-যান চলাচল করতে পারছে না।পরে নকশার পরিবর্তন করে উচু করে সেতু নির্মাণের জন্য নতুন নকশা অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় বাড়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। কয়েক দফায় সময় ও অর্থ বেড়ে এখন ব্যয় ১২৫ কোটি ৯২ লাখ ৩১৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সেতুটি নির্মাণ হলে নড়াইল জেলা শহরের সাথে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে কালিয়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। ফলে তাদের ভোগান্তি কমবে। অপরদিকে ব্যবসা বাণিজ্যসহ মানুষের জীবন যাত্রার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।বারইপাড়া ঘাট এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন দিলু বলেন, তিনি প্রায়ই নবগঙ্গা নদীর বারইপাড়ার খেয়া পার হয়ে উপজেলা শহর কালিয়া যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন নানা জটিলতায় এ সেতুর কাজ শেষ হচ্ছে না। এ সেতুর ভুল নকশার সাথে জড়িতদের কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। উন্নয়ন কাজ ব্যহত হচ্ছে। তাই তাদের বিরূদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।এ ব্যাপারে নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কাজ চলমান রয়েছে। নকশা পরিবর্তনের কারণে আলাদা টেন্ডার করা হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।নড়াইল-১ আসনের সাংসদ বিএম কবিরুল হক মুক্তি বলেন, এ সেতুটি নড়াইল, গোপালগঞ্জ, খুলনাসহ কয়েকটি জেলার সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করবে। মানুষের সময় ও অর্থ বাঁচবে। বিশেষ করে কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে ব্যাপক সুবিধা সৃষ্টি হবে। এসব কিছু মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিনের চেষ্টার ফলে এবং প্রধানমন্ত্রী’র প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এ সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সকল জটিলতা নিরসন করা হয়েছে। দ্রুত গতিতে সেতুর কাজ এগিয়ে চলেছে। কাজ শেষ হলেই জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
০৯ এপ্রিল ২০২৪ ০৯:১০ এএম
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: আমলাভাঙা খালের দু’পাশে দুই গ্রাম। দক্ষিণ পাশে দক্ষিণ কাজির হাওলা, আর উত্তর পাশে পশ্চিম নেতা গ্রাম। এই দু’পাড়ের মানুষের যোগাযোগ মাধ্যম ছিল একটি বাঁশের সাঁকো। নড়বড়ে সেই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হতো। সাঁকো পার হতে গিয়ে স্কুল পড়ুয়া শিশু কিংবা বয়োবৃদ্ধদের খালে পড়ে যাওয়ার দুর্ঘটনাও ঘটতো প্রায়ই।অবশেষে সেই দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওই দুই গ্রামের মানুষের পারাপারের জন্য একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ২০ মার্চ বুধবার দুপুরে নির্মিত সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেসময় থেকেই সেতু দিয়ে লোকজন চলাচল শুরু হয়।জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদের উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ১৫ জন শ্রমিক ২৩ দিন ধরে সেতুটির নির্মাণকাজ করেন। এতে ব্যয় হয় মোট ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা। এরমধ্যে ২ লক্ষ ৮০ হাজার সরকারি এবং ৮৭ হাজার টাকা উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত তহবিলের।সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৭৫ ফুট দৈর্ঘ্য এবং সাড়ে ৪ ফুট প্রস্থের কাঠের এ সেতুটি আকর্ষণীয় করতে লাল-সাদা রঙে সাজানো হয়েছে। সেতুর মাঝপ্রান্তে একটি টং দোকান স্থাপন করা হয়েছে।এ সময় বই-খাতা নিয়ে সেতু পার হচ্ছিলেন পশ্চিম নেতা গ্রামের আব্দুল্লাহ। সে রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে আমি একবার পা পিচলে খালে পড়ে গিয়েছিলাম। এরপর থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে কলেজে যেতাম। এখন এই সেতু হওয়ায় মাত্র ১৫ মিনিটে কলেজে যেতে পারবো। আমাদের কষ্ট দূর হয়েছে। আশা করি, এখানে একটি পাকা সেতু হবে। তাহলে স্থায়ীভাবে আমাদের কষ্ট দূর হবে।’দৃষ্টিনন্দন এ সেতু দেখতে আসা দর্শনার্থী আল আমিন বলেন, ‘পথচারী কিংবা দর্শনার্থীরা এখানে চা-কফি, চিপস্-চানাচুর ও বিস্কিট খেতে পারবেন। খালের মাঝখানের টং দোকানে বসে এক কাপ চা-কফি খাওয়া সত্যিই উপভোগের। এই দোকানটির কারণে অনেক মানুষ এই সেতুটি দেখতে আসবে।’এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একটি খাল দুইটি গ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছে দীর্ঘদিন। দু’পাড়ে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীসহ দুইটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের জন্য সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমরা দৃষ্টিনন্দন একটি কাঠের সেতুটি করে দিয়েছি। এর মাধ্যমে দু’পাড়ের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘সেতুটির মাধ্যমে পশ্চিম নেতা গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। বিনামূল্যে সেতুর মাঝখানের টং দোকানটি তাকে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘দু’পাড়ের অসংখ্য মানুষের যাতায়াত এখানে। সেটি বিবেচনায় এখানে কাঠের অবকাঠামোর সেতু করে দেওয়া হয়েছে। কংক্রিটের সেতু যাতে করে দেওয়া যায়-আমরা সে ব্যবস্থা করবো।’
২৩ মার্চ ২০২৪ ০৮:৫৯ এএম
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: লোহার সেতুটি ভেঙেছে ১৪ বছর আগে । কিন্তু দীর্ঘ এত বছরেও সেতু নির্মাণের কোন নামগন্ধ নেই। বরং লোহার সেতুর বদলে একের পর এক হয়েছে কাঠ আর গাছের জোড়াতালি। সবশেষে সেখানে কাঠের সেতু হলেও চলে না যানবাহন। সেই কাঠের সেতুও এখন নড়বড়ে, শুধু কোনমতে চলে পথচারী।পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগ সহজ করতে গহিনখালী খালের ওপর ১৯৯০ সালে প্রথম লোহার সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটির দক্ষিণপ্রান্তে বাহেরচর বাজার এবং উত্তরপ্রান্তে বড়ইতলা বাজার। এছাড়াও দুই প্রান্তেই স্কুল, মাদ্রাসা এবং কলেজ রয়েছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম নির্মিত সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পারাপারের অনুপযোগী হয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় ২০০২ পরবর্তীতে লোহার পিলার ও বিমের ওপর কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে ৬৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২ মিটার প্রস্থের সেতু নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। ২০১০ সালে সেটিও ভেঙে যায়। তবুও ভাঙা সেতু দিয়ে লোকজন পারাপার হওয়ায় ২০১২ সালে এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে এলজিইডি।স্থানীয়রা জানান, একপর্যায় ভাঙা সেতুটির কংক্রিটের ঢালাই ভেঙে বিলীন হয়ে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে কাঠ এবং গাছ দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনমতে লোকজন পারাপারের উপযোগী করা হয়। এভাবে কয়েক দফা জোড়াতালি দেওয়া হয়। সবশেষে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলা চেয়ারম্যান উদ্যোগে একটি কাঠের সেতু করা হয়।সরেজমিনে দেখা গেছে, সেই কাঠের সেতুর অবস্থাও নড়বড়ে। শুরু থেকেই এই কাঠের সেতুতে যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই। শুধু পথচারী চলাচল করে। যতই দিন যাচ্ছে এখন কাঠের সেতুটিও অকেজো হতে চলছে। তাই হাজারও মানুষ চলাচল করা সেতুটি সরকারিভাবে নির্মাণের দাবি শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ দু’পাড়ের মানুষের।বড়ইতলা বাজারের ব্যবসায়ী শাহিল আহম্মেদ বলেন, ‘১৪ বছর আগে ভাঙা এই সেতু একের পর এক জোড়াতালি দেওয়ায় এটির নামই হয়েছে এখন ‘ভাঙা সেতু’। এই ভাঙা সেতু কবে নতুন সেতু হবে সেই অপেক্ষায় সবাই।’বাহেরচর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সাজিদুল আকন বলেন, ‘বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায় এখানে কংক্রিট ঢালাই কিংবা লোহার সেতু একান্ত প্রয়োজন। এই সেতু না থাকায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুই প্রান্তের বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাই সেতুটি নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।’উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘দু’পাড়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রায় দুই লক্ষ টাকা ব্যয়ে আমি সেখানে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে দেই। কিন্তু ওখানে একটি স্থায়ী সেতু খুবই প্রয়োজন। এটির বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে এলজিইডিকে অবহিত করেছি।’এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পে বাহেরচর ও বড়ইতলা বাজারের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা গহিনখালী খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবনাটি অনুমোদন হলে টেন্ডার পরবর্তীতে সেতু নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে।’
০৬ মার্চ ২০২৪ ০৮:৪৬ এএম
রংপুর ব্যুরো: রংপুর ও দিনাজপুরবাসীর বহুল প্রত্যাশিত জয়ন্তীপুর করতোয়া নদীর উপরে নির্মাণাধীন জয়ন্তীপুর ও গিলাবাড়ী ব্রিজ দুটির করতোয়া নদীর কাজ বন্ধ করে দিয়ে কাজের মালামাল নিয়ে চলে যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আর ব্রিজ দুটির নির্মাণ কাজ বন্ধ হওয়ায় সেই শেষ ভরসা নৌকায় পারাপার করে চরম ভোগান্তিতে পরেছে সাধারণ মানুষ। নির্মাণাধীন ব্রিজ দুটির কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ হলে পাল্টে যাবে রংপুর ও দিনাজপুর এই দুই জেলার প্রায় ৬ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মান ।সরে জমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী এলাকার একটি নির্বাচনী জন সভায় জয়ন্তীপুর ঘাটে একটি ও চতরা গিলাবাড়ী ঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ২০১৯ সালে এই ব্রিজ দুটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন পীরগঞ্জ আসনের এমপি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি ।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের তথ্য মতে, ব্রিজ দুটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি ১১ লাখ ৯ হাজার ৫৭০ টাকা । ব্রিজ দুটির কাজ ইতিমধ্যে ৬০ ভাগ কাজ সম্পূর্ণ হলেও এখন পুরো নির্মাণ কাজ বন্ধ করে নির্মাণাধীন মালামাল নিয়ে চলে গেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।এতে নদী পারাপারে চরম ভোগান্তিতে পরেছেন সাধারণ মানুষ । ২০২০ সালের শেষ দিকে ব্রিজ দুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিনগুণ সময় পাড় হওয়ার পরও ব্রিজ দুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি । ব্রিজ দুটির নির্মাণ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় হতাশায় এলাকাবাসী ।স্থানীয় বাসিন্দা আকবার আলী বলেন, ব্রিজ দুটির কাজ শেষ না করেই কাজ বন্ধ হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় এলাকার মানুষ। নদী পাড়ে বাসিন্দাদের এখনও নদী পার হতে হয় নৌকায় চড়ে, এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ । দ্রুত সময়ে ব্রিজ দুটি নির্মাণ করার দাবিও জানান এলাকাবাসী।উপজেলা প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলছেন, নানান সমস্যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ ছেড়ে দিয়েছে, তবে খুব শীঘ্রই টেন্ডারের মাধ্যমে ব্রিজ দুটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে ।রংপুর ও দিনাজপুরের চার উপজেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণে ব্রিজ দুটি দ্রুত টেন্ডারেরর মাধ্যমে পুনঃনির্মাণ কাজ শেষ করে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য দ্রুত উন্মুক্ত করে দেয়া হোক এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
০৫ মার্চ ২০২৪ ০৮:২০ এএম
জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি: কালের বিবর্তনে কলা গাছের ভেলা হারিয়ে গেলেও হারিয়ে যায়নি নৌকা। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ফেদুল্লা বেপারীর কান্দি নদী প্রায় ৩০০ মিটার বর্ষায় একমাত্র ভরসা নৌকা। নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে শত বছর ধরে চলাচল করছে এই ইউনিয়নের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। এখানে নৌকাডুবিতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘাটেছে। অনেকটাই নিরুপায় ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ।প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়রা। এখন ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।ফেদুল্লা বেপারি কান্দি রূপাবোর হাটের মধ্যে শাখা নদীর ওপর তৈরি করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। দীর্ঘ দিন ধরে ওই স্থানে একটি পাকা সেতুর দাবি বিভিন্ন দফতর ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে জানিয়ে এলেও এখনো তার সুরাহা হয়নি।এদিকে, সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অধিদফরের পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ শাখা নদীর এক মাথা পদ্মার সঙ্গে যুক্ত হলেও আরেক মাথা জাজিরা এলাকায় গিয়ে প্রায় ভরাট হয়ে কৃষি জমিতে পরিণত হয়েছে। বর্ষায় এই নদীতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে এলে এর বুকের বিভিন্ন স্থানে জেগে থাকা জমিতে চাষাবাদ করেন কৃষকরা। তবে এটি নদী না কি খাল, তা নিয়ে পাউবো ও এলজিইডির বিরোধ রয়েছে।উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মধ্যবর্তী শাখা নদীর সাথেই রয়েছে আমজাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব নাওডোবা পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়, কিন্ডার গার্ডেন, মহিলা মাদরাসা, সরকারি বি কে নগর বঙ্গবন্ধু কলেজ ও উপজেলা সদরে জাজিরা ডিগ্রি কলেজ। এ সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শাখা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয় তারা, ভিজে যায় বই-খাতাসহ পোশাক। সাঁতার না জানায় অনেক শিশু শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে চায় না।তবে স্থানীয়রা বলছেন, সাঁকোতে ঝুঁকি থাকায় বয়স্ক ও নারীদের পারাপারে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য দীর্ঘ পথ ঘুরে সড়কে উঠতে হয়। তারপরও প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বাঁশের সাঁকো।ফেদুল্লা কান্দির বাসিন্দা রাইসুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, নির্বাচন এলেই এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এখানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোটে পাস করার পর প্রতিশ্রুতির কথা আর মনে থাকে না। কত জনপ্রতিনিধি আসলো কিন্তু কেউ কথা রাখেনি।পূর্ব নাওডোবা ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খান বলেন, নদীতে একটি সেতু না থাকার বিষয়টি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এটা চরম দুর্ভোগের। সেতুটি নির্মাণ হলে পালেরচর, পূর্ব নাওডোবা, বড় কান্দি, কুন্ডেরচর, মাঝিরচর ও বি কে নগর এলাকায় বড় ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে।এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমন মোল্লা বলেন, আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের নদীর উপর সেতু নির্মাণের ডিজাইন প্রস্তুত করেছিলাম, কিন্তু (বিআইডব্লিউটিএ) ক্লাসিফিকেশনে নদী দেখানো। আর ডিসি অফিসে জলমহল দেখানো। যদি নদী থাকে তাহলে বিআইডব্লিউটিএ এর ক্লিয়ারেন্স লাগে। তারা যেই ডিজাইন দিয়েছে সেটাতে অনেক উঁচু হয়ে যায়। আর তাতে বাজারের দোকান নিচে পরে যাবে তাই কাজটি করতে পারিনি। সেজন্য আমরা বিকল্পভাবে চিন্তা করতেছি যে, নিচু করে ব্রিজটি করা যায় কি না। সেভাবে যদি অনুমোদন পাই আশা করি খুব দ্রুতই সেতুটির কাজ আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো।
০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১১:৫৪ এএম