হাঁসের খামার করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন পীরগঞ্জের হাবিব
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার কেষারানীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাংগি পাড়ার সাহেদুল ইসলামের ছেলে হাবিবুর রহমান হাবিব (৪৫)। তিনি পেশায় একজন কৃষক। ছোট বেলা থেকে কৃষি কাজের পাশাপাশি নিজের বাসায় খামার করার স্বপ্ন দেখতেন হাবিব।এই স্বপ্ন যেন তাকে তাড়া করত সব সময়। তাইতো স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনেক চেষ্টা করে নিজ উদ্যোগে বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। ব্যাংক এবং এনজিও থেকে লোন নিয়ে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাদের পরামর্শে এই খামার করেছেন তিনি। প্রথমে ৬০০ হাঁস ক্রয় করে শুরু করেন খামার। সেগুলো বড় করে বিক্রি করেন। এর পর আবার ১ হাজার ৭০ পিস হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করেন, যার প্রতিটির মূল্য ছিল ৫০ টাকা। বর্তমানে এই হাঁসগুলোর বয়স চলছে ৫ মাস ১৪ দিন। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৮টি হাঁস মারা গেলেও বর্তমানে তার খামারে ১ হাজার ৬২টি হাঁস রয়েছে।এখন তার খামারে গড়ে প্রতিদিন ২০০ ডিম দিচ্ছে হাঁসগুলো, যার বাজার মূল্য ২৬০০ টাকা। প্রতিদিন ৭ হাজার টাকা খরচ হয় তার এই খামারে, তবে আগামী ৬ মাস পূর্ণ হলে সবগুলো হাঁস ডিম দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন প্রতিদিন ১৩ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছেন এই খামারি। বর্তমানে হাঁসগুলোর বাজার মূল্য প্রায় ৬ লক্ষ টাকা।হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত হাঁসগুলো দেখভাল করে আমি কৃষিকাজে চলে যাই। এরপর আমার স্ত্রী দেখাশুনা করেন।তিনি বলেন, হাঁসগুলো সর্বদা নিবির পরিচর্যার মধ্যে রাখতে হয়। তা না করলে ভাইরাসে আক্রমণ করতে পারে। স্থানীয় দর্শনাথীরা বলেন, এই খামার দেখে আমাদের খুব ভালো লেগেছে, ভবিষ্যতে আমরাও এ রকম খামার করার চেষ্টা করবো।হাঁসের খামারির স্ত্রী সাবিনা বেগম বলেন, যদিও হাঁসের খামার করা কষ্টদায়ক, তারপরও এই খামার করে দ্বিগুণ টাকা আয় করা সম্ভব।এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা রনজিৎ চন্দ্র সিংহ বলেন, আমরা খামারিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছি। এবার পীরগঞ্জ উপজেলার অনেক জায়গায় ছোট ছোট হাঁসের খামার গড়ে উঠেছে। আশা করি, খামারিরা লাভবান হবেন।